Banner
পার্সি এবং ইসলাম

লিখেছেনঃ মোহাম্মদ মোস্তফা , আপডেটঃ July 18, 2009, 12:00 AM, Hits: 15086

খ্রীষ্টপূর্ব ৬২৮ অব্দে পার্সি ধর্মগুরু জরথুস্ত্রর জন্ম। তার জন্ম হয় এক কুমারী  কন্যার গর্ভে। কুমারী কন্যার গর্ভের সন্তান সমাজে স্বাভাবিকভাবে কোনদিন বড় হতে পারে নাই। তখনকার সমাজেও এই প্রশ্ন উঠে  না। এই জরথুস্ত্রও স্বাভাবিকতা পেলেন না। তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিছুদিন পর পরম ঈশ্বর অহুর মাজদার দৈববাণী শুনলেন পাহাড়ে ধ্যানমগ্ন অবস্থায়। মাজদা নাকি তাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, বিশেষ কর্তব্য কর্ম সম্পাদনের জন্য।

তারপর তিনি নেমে এলেন পাহাড় থেকে সাধারণ মানুষের কাছে। তিনি আজারবাইজান থেকে ভারতবর্ষ সবখানেই অহুর মাজদার ন্যায় ও সত্যের বাণী শোনালেন। কেউ শুনল না, লোকে তাকে উপহাস করতে থাকল।

তারপর ফরগনা রাজ্যে গিয়ে কোনরকমে পালিয়ে বাঁচলেন, তারপর ইরানে। ইরানে এসে তিনি চিন্তা করলেন যে দশ বছর ঘুরেও একজন মানুষকেও দীক্ষা দিতে পারেন নাই, অতএব তিনি অনুভব করলেন নেতৃস্থানীয় কোন মানুষ যতক্ষণ না তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করছে ততক্ষণ তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিজের ধর্মের কথা প্রচার করতে পারবেন না। তাই তিনি সেখানকার রাজা গুস্তাসেপর কাছে গেলেন এবং তাকে তার ধর্মমতে দীক্ষা দিলেন। তারপর এই রাজাকে দিয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজ্য দখল করালেন জরথুস্ত্র এবং সেসব জায়গায় পার্সি ধর্ম প্রচার করতে থাকলেন। লোকে রাজার ভয়ে দলে দলে পার্সি ধর্মমতে দীক্ষিত হতে থাকল।  সে সময় ইরান থেকে ভারতবর্ষ পর্যন্ত পার্সি ধর্ম ছড়িয়ে পড়ল।

ইরান ছিল পার্সি ধর্মের প্রধান কেন্দ্র। এক সময় সেখানে পার্সি ধর্মের আলো নিভে গেল ইসলাম ধর্মের আঘাতে।

এই ধর্মের আবিষকারক হযরত মোহামমদ। তিনিও সমাজের চাপে পড়া একজন মানুষ। মায়ের গর্ভে থাকতে পিতা মারা গেলেন। ছয় বৎসর বয়সে মা, তারপরে দায়িত্ব নিলেন দাদা। এক বৎসরের মাথায় দাদা গেলেন মরে। তখন তার দায়িত্ব নিলেন তার চাচা।

কিন্তু চাচা ছিলেন অত্যন্ত গরীব। চাচা আবু তালিবের সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। আবু তালিবের আর্থিক দুরবস্থার জন্য ভেড়া চরাবার কাজ নিয়েছিলেন হযরত। একজন মেষপালকের সাথে সমাজের উঁচুস্তরের মানুষের ব্যবহার জনিত সম্পর্ক, আর্থিক সম্পর্ক ইত্যাদি নিয়ে টানাপোড়ন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি এভাবেই জীবন অতিবাহিত করতে থাকলেন। তার হাতে মোক্ষম সুযোগ আসল যখন তার বয়স পঁচিশ।

আবু তালিব তার ভাইয়ের ছেলেকে একটি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য মরীয়া হয়ে উঠলেন। তখন মক্কায় বাস করতেন এক ধনী মহিলা, নাম খাদিজা। ইতিপূর্বে তার দু’বার বিবাহ হয়েছিল; দুই স্বামীরই মৃত্যু হয়েছে। চল্লিশে পা দিয়েছিলেন খাদিজা। প্রচুর ধন-সম্পত্তির মালিক হওয়ায় খাদিজার পরিচিতি ছিল ব্যাপক।

খাদিজা তার কিছু পণ্য সিরিয়ায় নিয়ে যাবার জন্য একজন উপযুক্ত লোকের সন্ধান করছিলেন। আবু তালিব খাদিজাকে অনুরোধ করলেন তার ভাইয়ের ছেলের ব্যাপারে। শুরু হল হযরত মোহামমদের নতুন জীবন। জরথুস্ত্র যেমন পেয়েছিলেন রাজা গুস্তাসপ্‌কে তেমন মোহামমদ পেলেন খাদিজাকে। তার উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য একসময় পঁচিশ বছর বয়সে চল্লিশ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করে বসলেন। কিছুদিন পরে তিনি গায়েবী আওয়াজ পেলেন পাহাড়ে বসে, তিনি তার অনুসারী বানাতে থাকলেন। প্রথমে অনুসারী হলেন খাদিজা।

 

তারপরের ইতিহাস সপষ্ট। তিনি মদীনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে সেখানে শক্ত অবস্থান গেড়ে বসলেন এবং যে সমাজে তিনি অবলিত ছিলেন সেই সমাজের সর্বময় ক্ষমতা যখন তার হাতের মুঠায় আসল তখন তিনি বেপারোয়া হয়ে উঠলেন। একের পর এক বসতি, অঞ্চল বা উপজাতিকে আক্রমণ করে অধিকার করলেন। তাদেরকে কর দিতে আদেশ দিলেন।

তিনি বিভিন্ন খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদেরকে আদেশ দিলেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে। খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের নেতারা একে একে সকলেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করল। মোহামমদ সকলকে তার সপর্শ করা এক কলসি পানি দিয়ে বললেন, তোমরা এতদিন যে গীর্জায় প্রার্থনা করতে সেই সমস্ত গীর্জা ভেঙ্গে ফেলে সেখানে কলসির পবিত্র পানি ছড়িয়ে দিবে। তারপর সেই শূন্যস্থানে গড়ে তুলবে মসজিদ। (মাইকেল এইস হার্টের ১০০ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মনীষী, পৃষ্ঠা : ২০। অনুবাদ : আনোয়ারা মাহামুদ)

এরপর এক সময় ইসলামের বাহিনী বিজয় অভিযানে বের হয়ে পার্সি ধর্মের ভিত্তিভূমি ইরান আক্রমণ ও দখল করল। পার্সি ধর্মাবলম্বী যারা ছিল তাদেরকে দলে দলে হত্যা করা হল। বাধ্য হয়ে পার্সিরা ইসলাম গ্রহণ করল। একটা ক্ষুদ্র অংশ প্রাণ ও ধর্ম দুই বাঁচাতে ভারতবর্ষে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিল।

এভাবে পার্সি ধর্মের সূর্যকে অস্তমিত করে ইসলামের সূর্য আবির্ভূত হল। ইসলামের সূর্যের আলোয় পৃথিবীর আজ কি অবস্থা সচেতন মহল ভাল করেই বুঝতে পারছেন। একজন লোকের সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আক্রমণ আজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে।

অনলাইন : ১৮ জুলাই, ২০০৯

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
Archive