Banner
নাস্তিকদের চেয়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি — গৌতম রায়

লিখেছেনঃ গৌতম রায় , আপডেটঃ December 1, 2017, 12:00 AM, Hits: 54

 

পশ্চিমবাংলায় নাস্তিকদের মোট সংখ্যা ৭৮৪, কেরলে ৪৮৯৬ আর ত্রিপুরায় ৫৩। অথচ নির্বাচনে ভরাডুবির পরও সিপিএম ২০১৪ সালে দাবি করেছিল তাদের একারই সদস্য সংখ্যা ৫ কোটিরও বেশী (তথ্য- উইকিপিডিয়া)। তার মানে, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-র সদস্যরা কি কমিউনিস্ট বা নাস্তিক নন?


আগস্ট-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলার নাস্তিকদের নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর খবর বেরিয়েছে ভারতের সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্রে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নাস্তিকদের সংখ্যা নিয়ে প্রথম পাতায় এই সংবাদ ছাপা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে বাংলার সর্বমোট নাস্তিকদের সংখ্যা হাজারের ধারে কাছেও নেই। যদিও সংবাদে এই পরিসংখ্যানের উৎস’র উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়নি এই সংখ্যা জনগণনা’র হিসেব অনুযায়ী না অন্য কোনও তথ্য গবেষণার ফল।


বঙ্গ সিপিএম-এর বহু নেতা কর্মীরা যেমন নিয়মিত কালী, জয় মা তারা বা সন্তোষী মায়ের জন্য উপোষ করে পুজো দেন, তেমনি শুধু নামাজ রোজাই নয়, হজ, ওমরাতে গিয়ে টুপি পরে, দাড়ি রেখে একেবারে সাচ্চা মুসল্লি হয়েছেন। এই লেখকেরই এক সিপিএম আত্মীয় ভিজে গামছা পরে শাঁখ বাজিয়ে, ঘণ্টা নেড়ে ইষ্ট দেবতার ছবির সামনে রোজ ‘সন্ধ্যা’ দিতেন। অথচ ধর্ম চর্চা কমিউনিস্টদের জন্য মাটিতে থুতু ফেলে আবার থুতু চাটার শামিল।


বিশ্ব কমিউনিস্ট নেতারা বার বার মনে করিয়েছেন কমিউনিস্টদের জন্য বৈজ্ঞানিক নাস্তিকতার প্রচার ও প্রসার অবশ্য কর্তব্য। লেনিনের যুগান্তকারী লেখাতে আছে – সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব ও প্রয়োগে নাস্তিকতা মার্কসবাদের স্বাভাবিক ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তবে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী, সিপিএমের কোটি কোটি সদস্য বা নানা বর্ণের হাজার হাজার মাওবাদী, নকশালরা কি আদৌ কমিউনিস্ট? সিপিএমের কমিউনিজম প্রধানত দেওয়াল লিখন আর স্লোগানবাজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আদতে একমাত্র সংসদীয় গদি দখল আর গদি ধরে রাখার মধ্যেই তারা পার্টি, তত্ত্ব এবং সদস্যদের সর্বতোভাবে ব্যবহার করেছে। এই কাজে নাস্তিকতার প্রয়োজন হয় না।


নাস্তিকতা কোনও দল বা ধর্ম না। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার চর্চার ফসল। প্রত্যেক নাস্তিক তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি যুক্তি আর বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করে নাস্তিক হয়। একটি কমিউনিস্ট পার্টি তার সদস্যদের জন্য যথার্থ যুক্তি, বুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান ও ইতিহাস চর্চার ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যাতে সদস্যরা অতীন্দ্রিয় জগতের অসারতা বুঝে তার বিপরীতে জাগতিক, বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনির্ভর যুক্তিবাদের মাধ্যমে নাস্তিকতাকে, আস্তিকতার ঊর্ধ্বে তার চিন্তায়, মনে ও জীবনশৈলীতে স্থান দেয়।


কিন্তু নামে মাত্র কমিউনিস্ট দলটি যদি দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের বদলে ধান্দামূলক বস্তুবাদের চর্চা করে, সুবিধেবাদী ভুয়ো তত্ত্ব প্রচার ও প্রয়োগ করে এবং সর্বোপরি একমাত্র গদি দখলের চিন্তায় ও কর্মসূচীতে সর্বক্ষণের জন্য নিয়োজিত থাকে তবে তাদের মুক্ত-যুক্তি-বুদ্ধি চর্চার প্রয়োজন হয় না। বরং ঐ সব সময় নষ্ট করা কাজ জটিলতার সৃষ্টি করে ভোটের সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। পশ্চিমবাংলার বর্তমান পরিস্থিতি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে এখানকার সিপিএমের লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি সদস্য ও সমর্থকদের বেশির ভাগই কমিউনিস্ট ছিল না, কারণ সিপিএম কোনও কমিউনিস্ট দল না। যেমন ধান গাছে আম ফলে না, তেমনই সিপিএমে নাস্তিক কমিউনিস্ট আশা করা যায় না।


সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কলকাতার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দিদিমণি বলেছেন, পশ্চিমবাংলার ন’কোটি জনসমুদ্রের মধ্যে এক মুঠো নাস্তিক হওয়ার কারণ সাদা কালোয় দেখা ঠিক হবে না। ধর্ম অতি পরম ও ব্যক্তিগত উপলব্ধি। যা অনেকে প্রকাশ করতে চান না।


প্রশ্ন- যাদের ধর্ম নেই। যারা নাস্তিক কমিউনিস্ট, তারাও কি নাস্তিকতাকে ভয়ে বা লজ্জায় লুকিয়ে রাখবেন, নাকি সাচ্চা কমিউনিস্টদের মতো প্রচার ও প্রসার করবেন? পশ্চিমবাংলায় বহু দশক ধরে তথাকথিত “বামপন্থায় লালিত, রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ, অগণিত মেহনতি, ছাত্র-যুব, শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী মানুষ” সিপিএমের লাল পতাকার নীচে এসেছিল প্রধানত নানা সুবিধের আশায়। পার্টির নৌকা ডুবতে শুরু করলে অন্য পার্টির শক্ত এবং বড় পতাকার তলায় সুড় সুড় করে গিয়ে জড়ো হয়েছে বহু সংখ্যক বামপন্থীরা। কোনও নীতিগতো সমস্যা হয়নি।


তার কারণ নীতিরই বিশেষ বালাই ছিল না। সিপিআই(এম) মার্কসবাদ’কে বন্ধনীর মধ্যে রেখেছে, যাতে স্বীকার বা অস্বীকার কোনওটাতেই অসুবিধে না হয়।


এই পার্টির সুদীর্ঘ শাসনকালে বাংলায় হাতে সুতো, কোমরে দড়ি, হাত দেখা, নানা আংটি, দোয়া দুরুদ, ফুটপাথ দখল করে বিভিন্ন ঠাকুর আর পীর গজিয়েছে আর বেড়েছে। এই অপসংস্কৃতির বিপরীতে কোনও ধর্মবিরোধী বা সুসংস্কৃতির প্রচার হয়নি। ভয়ে যদি ভোট কমে যায়।


বেড়েছে মাদ্রাসা। মাদ্রাসা আর হজ হাউসের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে কোটি কোটি করদাতাদের টাকা, তা কেবল ভোট-বাক্সে সুফলের আশায়। কমিউনিস্ট নাস্তিকতা গোল্লায় যাক। মুসলিমদের শিক্ষার প্রয়োজন মনে করে থাকলে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার মুর্শিদাবাদের মতো পিছিয়ে পড়া জেলায় আরও স্কুল করতে পারতেন। গত বছরের গোড়াতেও বহরমপুরে দেখেছি গ্রীষ্মে গলা ফাটিয়ে এসএফআই বক্তৃতা দিচ্ছে-  সমস্ত মাদ্রাসাকে সরকারি স্বীকৃতি দিতে হবে। যেমন আংটি, তাবিজ পরা মানুষ নাস্তিক হতে পারে না তেমনই মাদ্রাসায় পড়া অগণিত পড়ুয়ারা আসল কমিউনিস্টদের সমর্থক হতে পারেনা। যত দিন যাচ্ছে ভরা বর্ষায় তারকেশ্বরে লাইন বাড়ছে, টুপি, দাড়ি, বোরখা বাড়ছে। গাড়িতে লেখা হচ্ছে ৭৮৬, KGN, জয় মাতা জি। ধর্মবিশ্বাস প্রকাশে কোনও কুণ্ঠা বা লজ্জা দেখা যাচ্ছে না। এখন পশ্চিমবাংলায় নাস্তিকদের থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি।

 

( নিবন্ধটি নবযুগ ব্লগ (www.nobojug.org) থেকে সংগৃহীত। এটি নবযুগ ব্লগে ২৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত। লিংক ঃ https://nobojug.org/node/PLqYlgLQ )

 

 

সাম্প্রতিক পোষ্টসমূহ